অভিন্নতাবাদ ; চার্লস লায়েল

বিবর্তনবাদ

অভিন্নতাবাদ

অষ্টাদশ শতকে জিওলজি তখনো জিওলজি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেনি। ন্যাচারাল সাইন্স হিসাবে কলেজে পড়ানো হয়। কেউ কেউ প্রকৃতির বিস্ময়তায় অভিভূত হয়ে দার্শনিক তত্ত্ব দিয়ে থাকেন। জেমস হুটন ন্যাচারাল সায়েন্সে যুগান্তকারী দার্শনিক তত্ত্ব দিলেন, ‘uniformitarianism’ বা অভিন্নতাবাদ। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, পৃথিবীতে আজকে যা যা ঘটছে, অতীতেও সেই সব প্রাকৃতিক পদ্ধতি কাজ করেছে। বহু বছরের ধীর এবং ক্রমাগত পরিবর্তনের ফলে আজকের পৃথিবী এই রূপ ধারণ করেছে। বর্তমানই অতীতের দরজা (present is the key to the past)। কিন্তু কত পুরোনো এই অতীত, তার হিসাব নেই। হুটনের মতে, পৃথিবীর আদি অন্ত বলে কিছু নেই, পদার্থ বিজ্ঞানের অঙ্ক পৃথিবীর বয়েসকে নির্ধারণ করতে পারবে না, “No vestige of a beginning, no prospect of an end.” ।

উইলিয়াম থম্পসন, বা পরবর্তী কালে লর্ড কেলভিন হিসাবে খ্যাতি লাভ করা পদার্থ বিজ্ঞানী তৎকালীন ভুদার্শনিকদের দর্শনকে ভ্রান্ত মনে করতেন। এই আদি অন্তহীন পৃথিবীর ধারণা অবৈজ্ঞানিক, এবং “reckless drafts on the bank of time”. এই বিষয়ে কেলভিনের সাথে ভূবিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু রামসে এর সাথে কিছু কথোপকথন হয়,

কেলভিন: “স্কটল্যান্ডের ভূতাত্ত্বিক বৈচিত্র্য গড়ে উঠতে কত সময় লাগতে পারে বলে মনে হয়?”

রামসে: “সময়ের কোনো সীমানা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ না, আমি পদার্থবিদদের মতো করে ভূতাত্ত্বিক সময়কে বেঁধে দেওয়ার যুক্তিকে বুঝতে পারি না। ”

এই কথোপকথন হয় ১৮৬৭ সালে। যদিও ততদিনে জিওলজি শৈশব ছেড়ে কৈশোরে পা দিয়েছে, ১৮৩০-১৮৩৩ প্রকাশিত হয়েছে প্রথম জিওলজি বই, চার্লস লিয়েলের, প্রিন্সিপালস অফ জিওলজি (principles of geology) । ১৮৩১ সালে সেই বইটি চলে এসেছে আজ অবধি পৃথিবীর সব থেকে জনপ্রিয় জিওলজিস্ট এর হাতে, চার্লস ডারউইন। ডারউইন তখন ক্যামব্রিজের ছাত্র, তার শিক্ষক (সুপারভাইসর) এডাম স্যাডউইক তৎকালীন বিখ্যাত জিওলজিস্ট। ওয়েলস এর উপকূলে কিছু দিন ভূতত্ত্ব নিয়ে কাজ করার পর ১৮৩১ সালে ডারউইন শুরু করেন দীর্ঘ ৫ বছর ব্যাপী সমুদ্র যাত্রা। বিগেল জাহাজের ক্যাপ্টেন ফিটজ রয়ের থেকে চার্লস লিয়েলের Principles of Geology এর প্রথম খন্ড আসে ডারউইন এর কাছে – শুরু হয় বিজ্ঞানের নতুন অধ্যায়।

চার্লস লিয়েল তার বইতে হুটনের অভিন্নতাবাদকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। পাথরের আবহবিকার এবং নগ্নীভবনের (denudation) পদ্ধতি নিয়েও কিছু ধারণা দিয়েছিলেন এই বইতে, যদিও এই সমস্ত প্রাকৃতিক পদ্ধতির সময় কাল নিয়ে লিয়েল কখনোই কথা বলেন নি, তার মতেও সময় ছিল অসীম৷

জীবনের ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের বোঝার উপর লায়েল সমানভাবে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তিনি ডারউইনকে এত গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলেন যে ডারউইন বিবর্তনকে এক ধরণের জৈবিক অভিন্নতাবাদ হিসাবে কল্পনা করেছিলেন।

রেফারেন্সঃ

1.Burchfield, J.D., 1974. Darwin and the dilemma of geological time. Isis, 65(3), pp.301-321.

2.Bury, H., 1918. THE DENUDATION OF THE WEALD: A Defense of Existing Theories. Science Progress (1916-1919), 13(50), pp.311-318.

বর্তন নিয়ে অন্যান্য লেখাঃ বিবর্তনবাদ – Faith and Theology (faith-and-theology.com) \

ফেইসবুকঃ Faith & Theology | Facebook

Asief Mehedi

Assalamualaikum to all.My name is Asief Mehedi . I am an informal philosophy student. Let's talk about comparative theology, we work to suppress atheism. Help us to suppress atheism and come forward to establish peace.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button