ফিকহ

ফিকহ কাকে বলে ?

ফিকহ শাস্ত্র

ফিকহ কি? ফিকহ একটি আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো উপলব্ধি করা, গভীরভাবে কিছু বুঝতে পারা,উন্মোচন করা, অনুধাবন করা, সূক্ষ্মদর্শিতা ইত্যাদি। ইসলামের পরিভাষায় ফিকহ হলো এমন শাস্ত্র, যার মাধ্যমে ইসলামের উৎস সমূহ তথা কুরআন ও হাদীস থেকে বিস্তারিত প্রমাণসহ ব্যবহারিক জীবনের বিভিন্ন বিধি-বিধান ও ইসলামি সমাধান জানা যায়। বর্তমানে আরবি ভাষায় আইনশাস্ত্রকেই ফিকহ বলা হয়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, কুরআন-সুন্নাহের বিস্তারিত দলিলের আলোকে শরীয়তের ব্যবহারিক বিধি-বিধান জানার নাম হলো ফিকহ।

ইসলামি বিধি-বিধানের উৎস

ইসলামিক বিধি-বিধানের মৌলিক উৎস ৪টি। ১. কুরআন। ২. হাদিস। ৩. ইজমা ৪. কিয়াস।

কুরআন

কুরআন শব্দের অর্থ সর্বাধিক পঠিত। কুরআন আল্লাহ্‌র নাযিলকৃত ঐ কিতাবকে বলা হয়, যা তিনি তাঁর শেষ নবী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)- এর উপরে দীর্ঘ তেইশ বৎসর কালব্যাপী বিভিন্ন পর্যায়, প্রয়োজন মোতাবেক অল্প অল্প করে অবতীর্ণ করেছিলেন।

‘আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা, আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ) কে বেহেশত থেকে দুনিয়াতে প্রেরণ করার প্রাক্কালে ঘোষণা করেন যে,

“আমি বললাম,‘তোমরা সবাই তা থেকে নেমে যাও। অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোন হিদায়াত আসবে, তখন যারা আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না’ (অর্থাৎ দুনিয়ার জীবনের সমাপ্তিতে তাঁরা আবার অনন্ত সুখের আধার এ বেহেশতেই ফিরে আসবে)। আর যারা তা অস্বীকার করে আমার নিদর্শন সমুহকে মিথ্যা সাব্যস্ত করবে, তাঁরা হবে জাহান্নামের অধিবাসী এবং সেখানে তাঁরা অনন্তকাল থাকবে”। [1]সূরা বাকারা; ২ঃ৩৮

‘আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা উক্ত ঘোষণা মোতাবেক যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুলের মাধ্যমে হেদায়েত বা জীবন বিধান প্রেরণ করেছে। এই জীবন বিধানের নাম কিতাবুল্লাহ। যখন কোনো মানবগোষ্ঠী আল্লাহর বিধানকে বাদ দিয়ে মানব রচিত বিধানে চলতে থাকে তখন এই ‘আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নবী-রাসুলদের মাধ্যমে এই কিতাব অবতীর্ণ করেন।

মানব সৃষ্টির সুচনা হতে দুনিয়ায় যেমন অসংখ্য নবী-রাসুল এসেছেন, তেমনি তাঁদের উপরে নাযিলকৃত কিতাবের সংখ্যাও অগণিত। নবীদের মধ্যে হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) যেমন সর্বশেষ নবী, তেমনি তাঁর উপরে নাযিলকৃত কুরআনও আল্লাহ্‌র সর্বশেষ কিতাব।

কুরআন হচ্ছে মুসলিমদের পুর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। আল-কুরআন কোনো সাধারণ ইতিহাসগ্রন্থ নয়; তবে এতে রয়েছে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক দলিল প্রমাণ। আল-কুরআন কোনো বৈজ্ঞানিক কিতাব নয়; তবে এখানে অনেক বৈজ্ঞানিক নিদর্শন রয়েছে। আল-কুরআন কোনো কাব্যগ্রন্থ নয়; তবে এটি কাব্যরসে সিক্ত কালজয়ী মহাকাব্য।

হাদিস

হাদিস হলো মূলত ইসলামের শেষ বার্তাবাহক শেষ নবী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর বাণী ও জীবনাচরণ। অর্থাৎ, রাসুল (সঃ) এর কথা, কাজ ও মৌন সম্মতিকে হাদিস বলে।

হাদিস মুসলিমদের জীবনাচরণ ও ব্যবহারবিধির অন্যতম পথনির্দেশ। কুরআন ইসলামের মৌলিক গ্রন্থ এবং হাদিসকে তার ব্যাখ্যা হিসেবেও অভিহিত করা হয়।

ইজমা

ইজমা হচ্ছে ইসলামী শরিয়তের কোনো একটি বিষয়ে সুস্পষ্ট কুরআন ও হাদিসের দলীল না থাকে এবং এ ধরনের কোনো একটি বিষয়ে সমস্ত উলামায়ে কিরামের কোনো এক যুগে একত্রিত হয়ে ঐক্যমতে পৌছার নাম।

এটা শুধুমাত্র আইম্মাতুল ইজতিহাদ বা যারা ইজতিহাদ করে থাকেন তাদের অর্থাৎ মুজতাহিদ ‘আলেমগণই করবেন। এটি বিভিন্ন যুগে বা বিভিন্ন সময়ে হতে পারে। ঐ যুগের মুজতাহিদ ‘আলেমরা একত্রিত হয়ে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে যখন ঐক্যমতে পৌছবে তখনই মূলত ইজমা সাব্যস্ত হবে। তবে যে বিষয়ে সুস্পষ্ট নস বা দলীল রয়েছে সে বিষয়ে ইজমা বৈধ নেই। শুধুমাত্র যে সমস্ত বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্ট নস বা দলীল নেই কিন্তু কিছু নির্দেশনা পাওয়া যায় সেটিকে সামনে নিয়ে ঐ সময়ের শ্রেষ্ঠ ‘আলেমগণ যদি কোনো বিষয়ে ঐক্যমতে পৌছেন এবং ঐক্যমতে পৌছার পর তাদের যেই বক্তব্য থাকে এটাকেই ইজমা বলা হয়ে থাকে।

কিয়াস

কিয়াস হচ্ছে কুরআন ও হাদিস থেকে যদি কোনো বিষয়ে সুস্পষ্ট দলীল না পাওয়া যায় তবে, কুরআন এবং হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী যে আন্দাজ বা অনুমান করা হয়ে থাকে সেই অনুমান বা আন্দাজকে কিয়াস বলা হয়।

অর্থাৎ, যেসমস্ত মাস’আলার ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে কুরআন এবং হাদিসের নির্দেশনা আছে সে সমস্ত মাস’আলাকে যে সমস্ত মাস’আলার ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা নেই সেটার উপর প্রয়োগ করা। কিয়াস ইসলামী শরিয়তের মধ্যে বৈধ এবং এটি কিয়ামাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে যেটি ‘আলেমগণ করতে পারবেন সরকার নয়। 

ধর্ম,বিজ্ঞান এবং ফিলোসফি সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েভসাইটে। [Faith and Theology]

আমাদের ওয়েভসাইট লিংক।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Telegram
WhatsApp

Leave a Comment

Your email address will not be published.

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

Category