Trending

ফিলোসোফি অব সাইন্স ( বিজ্ঞানের দর্শন)

বিজ্ঞান

ফিলোসোফি অব সাইন্স

বিজ্ঞান ” শব্দটি সম্ভবত অনেকগুলি ভিন্ন চিত্র মনে নিয়ে আসে: একটি মোটা পাঠ্যপুস্তক, সাদা ল্যাব কোট এবং মাইক্রোস্কোপ, একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী একটি টেলিস্কোপের মধ্য দিয়ে উঁকি দিচ্ছেন, রেইনফরেস্টে একজন প্রকৃতিবিদ, আইনস্টাইনের সমীকরণগুলি একটি চকবোর্ডে লেখা, মহাকাশ যানের উৎক্ষেপণ, বুদবুদ বীকার… এই সমস্ত চিত্রগুলি বিজ্ঞানের কিছু দিককে প্রতিফলিত করে, তবে সেগুলির কোনওটিই সম্পূর্ণ চিত্র প্রদান করে না কারণ বিজ্ঞানের অনেকগুলি দিক রয়েছে:

চিত্রটি বিজ্ঞানের একক দিককে প্রতিফলিত করে, সম্পুর্ন চিত্রকে নয়। সুত্রঃ University of California

এই সমস্ত চিত্রগুলি বিজ্ঞানের একটি দিক দেখায়, তবে বিজ্ঞানের সম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি কোনও বিশেষ উদাহরণের চেয়ে বেশি।

𝘸𝘩𝘢𝘵 𝘐𝘴 𝘚𝘤𝘪𝘦𝘯𝘤𝘦 ? বিজ্ঞান আসলে কী?

ল্যাটিন শব্দ সায়েনটিয়া (Scientia) থেকে ইংরেজি সায়েন্স শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে জ্ঞান। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শব্দটির অর্থ বিশেষ জ্ঞান। এই সংজ্ঞাটি কি ঠিক? জ্বি উৎপত্তি/ দিক থেকে একেবারে সঠিক।

𝘈𝘤𝘢𝘥𝘦𝘮𝘪𝘤 𝘚𝘤𝘪𝘦𝘯𝘤𝘦:

আশ্চর্য হলেও সত্য, আড়াই হাজার বছর ধরে পৃথিবীতে বিজ্ঞানচর্চা হলেও বিজ্ঞানীরা বিজ্ঞানের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দিতে পারেননি কিংবা এ নিয়ে একমত হতে পারেননি! ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জেমস লেডিম্যান এর মতে,

We may not yet know how to define science or how to tell whether certain contentious activities or beliefs count as scientific or not, but we certainly have lots of example of science.

আমাদের সামনে বিজ্ঞানের অজস্র উদাহরণ থাকলেও বিজ্ঞানকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায় কিংবা কোন ধরণের বিতর্কমূলক কার্যকম বা বিশ্বাস কে(!) বৈজ্ঞানিক বলা হবে তা আমরা জানি না! [1] James Ladyman, Understanding Philosophy of Science. Page- 4

ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জেমস লেডিম্যান এর মতে, “আমাদের সামনে বিজ্ঞানের অজস্র উদাহরণ থাকলেও বিজ্ঞানকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায় কিংবা কোন ধরণের বিতর্কমূলক কার্যকম বা বিশ্বাস কে(!) বৈজ্ঞানিক বলা হবে তা আমরা জানি না!”

প্রথম কথা হল, ‘বিজ্ঞান কি?’ এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া কাদের কাজ?

ফিলোসফি অব সায়েন্স এর অন্যতম মূল আলোচ্য বিষয় হল সায়েন্টিফিক মেথডোলজি। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে যে সব ফিলোসফিক্যাল প্রশ্ন তৈরি হয় সেসব নিয়ে কাজ করেন যারা তারা হলেন ফিলোসফার অব সায়েন্স। ‘বিজ্ঞান কি?’, এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া উনাদের কাজ। বিজ্ঞান কি?’- এ প্রশ্নের জবাবে এডিনবরা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মিখেলা মাসিমির মতে”

Science just is what people who are professional scientists do.

অর্থাৎ, বিজ্ঞান হল ওটাই যা পেশাদার বিজ্ঞানীরা চর্চা করেন। কিন্তু এ সংজ্ঞাটি খুব একটা কার্যকরী নয়। বিজ্ঞান কি শুধু পেশাদার বিজ্ঞানীরাই চর্চা করেন? পেশাদার বিজ্ঞানীদের সব কাজই কি বিজ্ঞান? এ ধরণের প্রশ্ন থেকে যায়৷ তবে এ থেকে জানা যায় মোটাদাগে কারা বিজ্ঞানচর্চা করেন। [2]Michel Massimi (2015), Philosophy and the Sciences for everyone.

আচ্ছা! তাহলে, বিজ্ঞান কি? ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ক্লার্ক লারসেনের মতে,

Science is way of knowing, it’s a learning process, and it connects our lives with our world.

বিজ্ঞান হল জানার এবং শেখার প্রক্রিয়া! এটি আমাদের লিভিং বিয়িং এর সাথে নন-লিভিং ওয়ার্ল্ডের সংযোগ ঘটায়।[3]Clark Spencer Larsen (2018), Essentials of Biological Anthropology. 4th edition

আচ্ছা! প্রশ্ন উঠতে পারে, এই ওয়ার্ল্ডটি কোন ‘ওয়ার্ল্ড’? নিউ মেক্সিকো ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ম্যানুয়েল মোলস এর ভাষায়,

Broadly speaking, science is a way of obtaining knowledge about the natural world using certain formal procedures.

মোটাদাগে, বিজ্ঞান হল নির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিক(কাঠামোবদ্ধ) প্রক্রিয়ায় ‘প্রাকৃতিক জগৎ’ সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের উপায়। অর্থাৎ, বিজ্ঞান বস্তুজগৎ নিয়ে ডিল করে। বিজ্ঞানের মালমশলা হল বস্তু এবং এর সাথে জড়িত শক্তি।[4]Manuel C. Molles (2015), Ecology: Concepts and Applications. 7th edition.

মোটাদাগে, বিজ্ঞান হল নির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিক(কাঠামোবদ্ধ) প্রক্রিয়ায় ‘প্রাকৃতিক জগৎ’ সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের উপায়। অর্থাৎ, বিজ্ঞান বস্তুজগৎ নিয়ে ডিল করে। বিজ্ঞানের মালমশলা হল বস্তু এবং এর সাথে জড়িত শক্তি।

বিজ্ঞানে থিওরি, ল’ এবং হাইপোথিসিস কাকে বলে?

আমরা এখন জানবো বিজ্ঞানের কার্যক্রম শুরুর পুর্বের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্পর্কেঃ

হাইপোথিসিস (Hypothesis):

কোনো একটি ঘটনার অপ্রমাণিত ব্যাখ্যাই হলো হাইপোথিসিস।

উদাহরণস্বরুপ, আপনার মাথায় একটা আপেল পড়ল। মনে  প্রশ্ন আসতেই পারে কেন আপেলটা আপনার মাথাতেই পড়ল!

from: Google photo

কেন আপেলটা নিচেই পড়ল তা নিয়ে আপনি কয়েকটা ব্যাখ্যা দিলেন।

১. আপেলটা ইচ্ছে করেই আপনার মাথায় পড়েছে

২. আপেলের ভেতর কিছু একটা ছিল যেটা আপনার মাথাকে আকর্ষণ করছে।

৩. কোনো একটা অদৃশ্য বল (Force) আছে যেটা আপেলকে মাটিতে নামিয়ে আনল।

এগুলো সবই হাইপোথিসিস, কারণ এগুলোর একটার প্রমাণও আপনার কাছে নাই।

কোনো হাইপোথিসিস ভবিষ্যতে ভুল প্রমাণিত হতেও পারে, আবার সঠিক প্রমাণিত হতেও পারে।

থিওরি (Theory): দ্যা স্ট্যানফোর্ড এনসাক্লোপিডিয়া অব ফিলোসোফির ভাষ্যমতে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হচ্ছে,

A scientific theory is an explanation of an aspect of the natural world and universe that can be repeatedly tested and verified in accordance with the scientific method, using accepted protocols of observation, measurement, and evaluation of results. Where possible, theories are tested under controlled conditions in an experiment.

আরেকটু সহজ করে বললে, (বারবার) পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হাইপোথিসিসকেই থিওরি বলে। [5]The Structure of Scientific Theories”. The Stanford Encyclopedia of Philosophy. Metaphysics Research Lab, Stanford University. 2016. https://plato.stanford.edu/entries/structure-scientific-theories/

আরেকটু সহজ করে বললে, (বারবার) পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হাইপোথিসিসকেই থিওরি বলে।”

উদাহরণঃ আপেল নিচে পড়ার ঘটনায় ফিরে যাই। আপনি আপনার হাইপোথিসিসগুলো পরীক্ষা করে দেখছেন।

১. আপেল নিয়ে গবেষণার পর আপনি জানতে পারলেন আপেলের ইচ্ছাশক্তি বলে কিছু নেই। তাই এই হাইপোথিসিস বাতিল করলেন।

বাকি রইল আর দুইটা হাইপোথিসিস।

২. আপনি আপেল এবং আপনার মাথার দুটোরই গবেষণা করলেন। এই গবেষণা থেকে নিচের ফলাফল গুলো পেলেন –

আপেল এবং আপনার মাথা, কোনোটার ভেতরেই এমন কিছু নেই যে দুটো একে অপরকে আকর্ষণ করবে।

আপেল আপনার মাথায় পড়েছিল ঠিক, কিন্তু সেটা আপনার মাথায় আটকে ছিল না।

শুধু আপেল নয়, পৃথিবীর সবকিছুই উপর থেকে নিচের দিকেই পড়ে।

এখন দেখতে পাচ্ছেন, এর মধ্যে একটা ফলাফলও আপনার হাইপোথিসিসকে প্রমাণ করছেনা। তাই এটাও বাতিল।

বাকি থাকলো একটা হাইপোথিসিস।

৩. অনেকবার, অনেকভাবে, অনেকজায়গা থেকে আপনি পরীক্ষা করে প্রমাণ পেলেন যে আসলেই কোনো বস্তুর উপর থেকে নিচে পড়ার পেছনে কোনো একটা ফোর্স কাজ করছে। আর আপনার এই থিওরি পুরো ঘটনাকে সঠিকভাবে ব্যাখ্যাও করতে পারছে।

এখন এটা হাইপোথিসিস থেকে হয়ে গেল থিওরি।

ল বা সূত্র (Law):

যখন কোনো ঘটনা একটা নির্দিষ্ট গাণিতিক নিয়ম মেনে ঘটে, তখন ঐ ঘটনাকে ব্যাখ্যা করতে পারে এমন সমীকরণকে বলা হয় ল বা সূত্র।

আর কোনো ঘটনাকে যখন কেন, কিভাবে ঘটছে তা ব্যাখ্যা করা যায় না, তখনও সেটা হয়ে যায় মহাবিশ্বের ল বা আইন। যেমন আলোর গতিবেগ সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার। কিন্তু কেনই বা ঠিক ৩ লক্ষ কিলোমিটার? কেন ২ বা ৪ লক্ষ কিলোমিটার নয়? এর কারণ আমরা জানি না। তাই এটাকে মহাবিশ্বের ল বা আইন হিসেবে ধরে নিয়েছি। আমাদের মহাবিশ্বের নিয়ম অনুযায়ী ভরহীন প্রত্যেকটা বস্তুই এই গতিতে চলবে। [6]Fact vs Hypothesis vs Theory vs Law – https://www.discovery.com/science/Difference-Between-Fact-Hypothesis-Theory-Law-Science [7]Superseded theories in science – https://en.m.wikipedia.org/wiki/Superseded_theories_in_science

Demarcation(সীমানা) Methodology (পদ্ধতি) and progress (অগ্রগতি) in science

Demarcation(সীমানা): ফিলোসোফি অফ সাইন্স এবং জ্ঞানতত্ত্ব (Epistemology) অনুযায়ী বিজ্ঞান(science) অ-বিজ্ঞান (non-science) এবং অপ-বিজ্ঞান (pseudo-science) কে আলাদা করার পদ্ধতিকে সীমানির্দেশক বা Demarcation বলা হয়। [8]Taylor, C. A. (1996). Defining science: A rhetoric of demarcation. Univ of Wisconsin Press.

Methodology (পদ্ধতি): বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করার পূর্বে বিজ্ঞান কি করতে পারবে এবং পারবে না তা আমাদের জানা দরকার। এক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের বৈজ্ঞানিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে পুর্ব নির্ধারিত একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করা থাকে (Deterministic methodology) এর ফলে জাগতিক বাস্তবতায় ঘটে যাওয়া ঘটনাসমুহ কে ব্যাখ্যা করতে বিজ্ঞানীদের সুবিধা হয়। [9]Tellis, W. (1997). Application of a case study methodology. The qualitative report, 3(3), 1-19.

Progress (অগ্রগতি): সীমানির্দেশক এবং নির্ধারিত মেথডলজি অনুযায়ী কাজ করলে বিজ্ঞানের অগ্রগতি সহজ হয় এবং পরীক্ষা নিরীক্ষায় স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি বিজ্ঞান কি করবে, কিভাবে করবে তা সবই পুর্ব নির্ধারিত থাকে। ফলে যেমন বিজ্ঞান, অপ-বিজ্ঞানের পার্থক্য করতে সুবিধা হয় তেমনই বৈজ্ঞানিক লক্ষ্যে পৌঁছাতেও এই পদ্ধতি গুলো অবদান রাখে।

বিজ্ঞানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার সম্পর্কে ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস এর বিজ্ঞানীরা আলোকপাত করেছেন,

Science is a way of knowing about the natural world. It is limited to explaining the natural world through natural causes. Science can say nothing about the supernatural. Whether God exists or not is a question about which science is neutral.  অর্থাৎ, “বিজ্ঞান হল প্রাকৃতিক জগৎ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের একটি উপায়। প্রাকৃতিক জগৎ সম্পর্কে জাগতিক(ন্যাচারাল) ব্যাখ্যা প্রদানে এটি সীমাবদ্ধ। অতিপ্রাকৃত কিছু আছে কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞান কিছুই বলতে পারে না। স্রষ্টা আছেন নাকি নেই- এ প্রশ্নের ব্যাপারে বিজ্ঞান নিরপেক্ষ।

অর্থাৎ, বিজ্ঞান হল প্রাকৃতিক জগৎ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের একটি উপায়। প্রাকৃতিক জগৎ সম্পর্কে জাগতিক(ন্যাচারাল) ব্যাখ্যা প্রদানে এটি সীমাবদ্ধ। অতিপ্রাকৃত কিছু আছে কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞান কিছুই বলতে পারে না। স্রষ্টা আছেন নাকি নেই- এ প্রশ্নের ব্যাপারে বিজ্ঞান নিরপেক্ষ।[10]Teaching about Evolution and the nature of science, US National Academy of Sciences, page-58

এতোক্ষণের বিজ্ঞানের প্রারম্ভিক আলোচনা থেকে আমরা বিজ্ঞানের বেশ কিছু ফিচার দেখতে পাই:

১.বিজ্ঞান হল জ্ঞানার্জনের একটি মাধ্যম। একমাত্র মাধ্যম নয়।

২.বিজ্ঞান শুধু প্রাকৃতিক তথা বস্তুজগৎ নিয়ে কাজ করে। অর্থাৎ, সবকিছু বিজ্ঞান দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায় না

বিজ্ঞান বস্তুজগতের শুধুমাত্র জাগতিক তথা বস্তুবাদী ব্যাখ্যাপ্রদানেই সীমাবদ্ধ। সুতরাং, কোন অতিপ্রাকৃত ব্যাখ্যা বিজ্ঞানের আওতাধীন নয়।

৩.বিভিন্ন অতিপ্রাকৃত সত্ত্বা যেমনঃ স্রষ্টা, জ্বীন-ভূত, ফেরেশতা ইত্যাদির আছে কি নেই ব্যাপারে বিজ্ঞান নাক গলায় না।

অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, মানুষজন বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীরা বিজ্ঞানের ব্যাপারে ভুল ধারণা নিয়ে বড় হয়। সত্যিকারের একাডেমিক সায়েন্স আর প্রচলিত পপসায়েন্সের মাঝে রয়েছে বিস্তর ফারাক। প্রখ্যাত পদার্থবিদ ফ্রিম্যান ডাইসন নিউ ইয়র্ক রিভিউতে এক আর্টিকেলে লিখেন,

The public has a distorted view of science, because children are taught in school that science is a collection of firmly established truths. In fact, science is not a collection of truths. It is a continuing exploration of mysteries.

অর্থাৎ, বিজ্ঞান সম্পর্কে মানুষজনের একটা বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। বাচ্চাকাচ্চাদের স্কুলে শেখানো হয় যে, বিজ্ঞান হচ্ছে সুপ্রতিষ্ঠিত সত্যের সমাহার! আসলে বিজ্ঞান কোন ‘কালেকশন অব ট্রুথ’ নয়। বিজ্ঞান হচ্ছে ক্রমাগত রহস্যোন্মোচন। [11]Freeman Dyson, How We Know, The New York Review. Retrieved from: https://www.nybooks.com/articles/2011/03/10/how-we-know/?pagination=false date: April 23, 2020

Science & Certainty ( বিজ্ঞান এবং নিশ্চয়তা)

থিওরি হলো সাইন্সে the highest level of certainty অর্থাৎ নির্ভুলতার সর্বোচ্চ স্তর যেখানে আমরা মানুষরা পৌঁছাতে পারি। তবে আমরা দৈনন্দিন জীবন এ থিওরি বলতে যা বুঝি এবং যা বুঝাই বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তা ঠিক তেমন নয়। Scientific literature এ থিওরি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থপূর্ণ জিনিস। এটি নিতান্ত একটি ধারণা বা কল্পনা নয়। বিজ্ঞানে প্রথমে একটি হাইপোথিসিস উপস্থাপন করা হয়, তারপর যখন সেই হাইপোথিসিস কে উক্ত বিষয় এর পন্ডিত গণ সাধারণভাবে গ্রহণ যোগ্য মনে করে এবং বিভিন্ন সময় সেটিকে পরীক্ষা করা হয়, তারপর সেটি থিওরির মর্যাদা পায়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, why science is amazing? এর উত্তরঃ কারণ এটি কাজ করে, এবং আমরা সকলেই এর থেকে উপকৃত হচ্ছি। উদাহরণস্বরুপ স্যার আইজাক নিউটন এর ম্যাথমেটিক্যাল ইকুয়েশনস এই ইকুয়েশনস গুলো প্রায় দুই’শ বছর কাজ করেছে এবং এই ইকুয়েশন গুলো অত্যন্ত নিখুঁত ও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ ল’ অফ নিউটন।

তবে মজার বিষয় হচ্ছে বিজ্ঞান কাজ করে এর অর্থ এই নয় যে বিজ্ঞান absolutely truth অর্থাৎ বিজ্ঞান কোনো বাস্তব সত্য নয়। প্রধানত এর কারণ দুটো, যে কেনো বিজ্ঞান আমাদেরকে নিশ্চয়তা পর্যন্ত পৌছিয়ে দেয় না। ফিলোসোফি অফ সাইন্সে দুটো সমস্যার কারণে আমরা জানি যে বিজ্ঞান নিশ্চয়তা বহন করতে পারে না। সমস্যা দুটি হলো ১. The Problem of Induction ২. Scatter Graph Problem

১. The problem of induction: এই সমস্যাটি মনে রাখার সহজ উপায় হলো the black swan problem. [12]problem of induction | Britannica যা ফিলোসোফি অফ সাইন্স এ অত্যন্ত পরিচিত একটি উদাহরণ। ধরুন একজন বিজ্ঞানী জানতে চায় যে রাজহাস কি রঙের হয়?অতএব তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলেন যে রাজহাস কি রঙের, যেহেতু তার পর্যবেক্ষণরত রাজহাস সবগুলোই সাদা রঙের ছিলো তাই তিনি এই সিদ্ধান্ত এ উপনীত হলেন যে পৃথিবীর সকল রাজহাস সাদা রঙের অর্থাৎ এই বিজ্ঞানী তার সীমিত পর্যবেক্ষণ এর মাধ্যমে একটি সাধারণ উপসংহার ঘোষণা করেছেন; কিন্তু এমনটা হতেও পারে যে ভবিষ্যৎ এ তিনি হয়তো কোনো কালো রাজহাস পর্যবেক্ষণ করবেন অর্থাৎ ভবিষ্যতে প্রকাশিত নতুন কোনো তথ্য তার পূর্ববর্তী উপসংহারকে হয় চ্যালেঞ্জ করবে না হয় ভুল প্রমাণ করবে। আর এটাই হলো The black swan problem Or the problem of induction.

black swan problem, slideshare

২. Scatter Graph Problem: একই অবজারভেশন থেকেএকাধিক থিওরি গঠিত হতে পারে উদাহরণস্বরুপ ধরুন একটি স্ক্যাটার গ্রাফ যেখানে সকল তথ্য গুলো বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন বিন্দুতে অঙ্কিত। এখন যদি একাধিক ব্যাক্তিকে এই স্ক্যাটার গ্রাফ এর কপি দিয়ে বলা হয় যে আপনি একটি লাইন অঙ্কন করুন যেটি আপনার কাছে সবচেয়ে উত্তর বিবরণ প্রতীয়মান হয়। কেউ হয়তো একটি সমান্তরাল লাইন অঙ্কন করবে কেউ হয়তো একটি বক্ররেখা অঙ্কন করবে কেউবা অন্য আকৃতির। অর্থাৎ প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ এর উপর নির্ভর করে একাধিক সিদ্ধান্ত কিংবা একাধিক conclusion ( উপসংহার) গঠন করা যায়। সুতরাং একই অবজারভেশন থেকে Alternative theory সম্ভব। আর এটাই হলো The Scatter graph problem. [13]www.psychwiki.com

Scatter graph, Google photo

Paradigm Shift ( ওয়ার্ল্ডভিউ এর পরিবর্তন)

Paradigm shift হচ্ছে আমেরিকান পদার্থবিদ এবং দার্শনিক Thomas Kuhn এর দ্বারা চিহ্নিত একটি ধারণা , একটি বৈজ্ঞানিক শৃঙ্খলার মৌলিক ধারণা এবং পরীক্ষামূলক অনুশীলনের একটি মৌলিক পরিবর্তন। [14]A paradigm shift in brain research – PubMed (nih.gov)

আরও বিশদভাবে বললে, প্যারাডাইম শিফট হচ্ছে কোনো একটি পর্যবেক্ষণ কে দীর্ঘ সময় ধরে একভাবে ব্যাখ্যা করা হতো কিন্তু পরবর্তীতে তার বিপরীত ব্যাখ্যা কেই সকলে গ্রহণ যোগ্য বলে প্রমাণ করে অথবা দাবি করে। অর্থাৎ কোনো একটি বিষয় এ তার wall View এর পরিবর্তন ঘটা।

থমাস কুহন দেখিয়েছেন কিভাবে কালের আবর্তনে একটি তত্ত্ব সম্পুর্নরুপে পরিবর্তিত হয় সুত্রঃ Slideshare 

আমরা এবার প্যারাডাইম শিফট এর উদাহরণ দেখবোঃ

পদার্থবিজ্ঞানে প্যারাডাইম শিফট  Steady state Model → Big Bang Model

বিগব্যাং এর পূর্বে মহাবিশ্ব সৃষ্টির অন্য ব্যাখ্যাটি ছিল ফ্রেড হয়েলের স্টেডি স্টেট মডেল। [15]The Steady-State Theory of the Expanding Universe – NASA/ADS (harvard.edu) এই মডেল অনুযায়ী ক্রমবর্ধমান মহাজগতের যে কোনো সময়েই পদার্থের ঘনত্ব অপরিবর্তিত থাকে। তার কারণ সম্প্রসারণের সাথে সাথে মহাজগতে প্রতিনিয়ত পদার্থের উৎপত্তি হয়। ১৯৬৪ সালে কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন আবিষ্কারের পরে এই তত্ত্বটি তার ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করে এভাবে: সুপ্রাচীন নক্ষত্রগুলো থেকে নির্গত আলো ছায়াপথের বিভিন্ন ধূলিকণার সাথে সংঘর্ষের ফলে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে যা এই রেডিয়েশনের কারণ। কিন্তু এই রেডিয়েশনের পরিমাণ মহাশূন্যের প্রত্যেক জায়গাতে প্রায় একই পাওয়া যায়। এর ফলে বিভিন্ন নক্ষত্র থেকে নির্গত আলো বিক্ষিপ্ত হয়ে মহাশূন্যের প্রতিটি প্রান্তে এসে সমপরিমাণ রেডিয়েশন তৈরি করার ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া এই রেডিয়েশনটি কোনো প্রকার পোলারাইজেশনের বৈশিষ্ট্যও দেখায় না যা সাধারণত বিক্ষিপ্ত হওয়া আলোকরশ্মি থেকে পাওয়া যায়। এরকম বিভিন্ন সমস্যার কারণে অধিকাংশ পদার্থবিজ্ঞানী এই মডেলটিকে গ্রহণ করেননি।

লিম্যাটারের বিগ ব্যাং থিওরি যা পরবর্তীতে জর্জ গ্যামো আরো উন্নত করেন। জর্জ গ্যামো ‘বিগ ব্যাং নিউক্লিওসিনথেসিস’ [16]Big Bang nucleosynthesis (sciencedaily.com) এর মাধ্যমে বিগ ব্যাংয়ের মহাবিস্ফোরণের পরের সময়ে মৌলের নিউক্লিয়াস সৃষ্টির ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করেন। তার সহকারি রালফ আলফার ও রবার্ট হারম্যান ‘কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড’ [17]What is the cosmic microwave background? | Space এর ব্যাপারে সর্বপ্রথম ধারণা দেন। এটা একধরনের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন যা মহাবিশ্বের জন্মলগ্ন থেকে সম্পূর্ণ মহাশূন্যকে ছেয়ে আছে। ১৯৬৪ সালে এই রেডিয়েশনের আবিষ্কারই বিগ ব্যাংকে মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিবর্তনের শ্রেষ্ঠ তত্ত্ব হিসেবে নির্বাচন করে দেয়। হাবলের পর্যবেক্ষণ এবং কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড Steady state model কে ফান্ডামেন্টালি ভুল প্রমাণ করে।

Big bang source: physics.org

বিজ্ঞানে থিওরি কাজ করলেও থিওরি ভুল হতে পারে।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এতোসব  ইভোলিউশন ব্যবহারিক অনেক কাজেই ব্যবহার করা হয় যেমন মেডিসিন, সোশিওবায়লজি ইত্যাদি ফিল্ডে, যেহেতু থিওরিটি কাজ করে সুতরাং এটি ভুল কেন হবে? ফিলোসোফি অফ সাইন্সের মজার একটি বিষয় হচ্ছে Even if the theory is wrong, it can work. অর্থাৎ সাইন্টিফিক থিওরি ভুল হলেও তা কাজ করতেই পারে। যেমন ফ্লোজিস্টনের কথাই ধরুন এটি একটি থিওরি যা কেমিস্ট্রি তে ব্যবহৃত হয়েছিলো নাইট্রোজেন আবিষ্কার করার জন্য। যদিও এই থিওরি ব্যবহার করে নাইট্রোজেন আবিষ্কার হয়েছে।কিন্তু পরবর্তীতে এই থিওরি টি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। [18]Theories and paradigm shifts – The Nature of Chemistry

from: Nature of chemistry

আবার ইথারের কথাই ধরুন, আলো যেহেতু তরঙ্গ সেক্ষেত্রে আলো নিশ্চয়ই কোনো মাধ্যমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে পৌছায়, এবং এটাকে ব্যাখ্যা করার জন্য তারা ইথার নামক কাল্পনিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে এসেছিলেন যদিও তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। অর্থাৎ ফেনোমেনা কে একপ্লেইন করতে পারলেই যে সেটা সত্য হয়ে যাবে এমন কোনো কথা নেই। [19]On the relative motion of the Earth and the luminiferous ether | American Journal of Science (ajsonline.org)

এখানে ভালো করে বোঝার চেষ্টা করুন আমি থিওরি জেনারেলাইজড হওয়ার কথা বলছিনা। আমি বলছি তত্ত্বের সম্পূর্ণ রুপে বাতিল হয়ে যাওয়া। যেমন ফ্লোজিস্টন কাজ করলেও আদোতে এটি সম্পুর্ন রুপে বাতিল প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে ইথারের অস্তিত্ব ও নেই বলে প্রমাণিত হয়েছে। ইভেন আপনি ফিলোসোফি অফ সাইন্স নিয়ে স্টাডি করলে এমন হাজারো সাইন্টিফিক থিওরি নিয়ে জানতে পারবেন যা ঐতিহাসিকভাবে সফল ছিলো কিন্তু পরবর্তীতে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং থিওরি বাতিল হয়না বা থিওরি কাজ করে, ব্যাখ্যা প্রদান করে তাই এটা সত্য বলা উচিত নয়।

বৈজ্ঞানিক থিওরি কাজ করলেও তা পরিবর্তন কিংবা ভুল প্রমাণিত হতে পারে।

আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো “Sciences changes even its works” বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল যদিও তা কাজ করে। আপনি ফিলোসোফি অফ সাইন্স এর যেকোনো বই দেখুন সকল ফিলোসফার রা একমত।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রকাশিত বই ❝Philosophy of Science, A very sort Introduction ❞ অনুযায়ী,

Historically there are many cases of theories; that We now believe to be false, but that were empirically quite successful.

অর্থাৎ “ঐতিহাসিক ভাবে এমন অনেক অনেক থিওরি আছে যেগুলো এখন আমরা মিথ্যা বলে জানি, তা একসময় অত্যন্ত সফল ছিলো।” [20]Philosophy of science: A very Short Introduction, Samir Okasha, Oxford University press. Page- 64

ক্যাম্ব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রকাশিত বই “Evidence and Evolution ” অনুযায়ী

The best that scientists can do at any time is to render comparative judgement (Between theories)

বিজ্ঞানীরা সর্বোচ্চ যা করতে পারে তা হলো তুলনামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া একের অধিক থিওরির মধ্যে থেকে। [21]Evidence and Evolution: Logic Behind The Science. Elliott Sober, Cambridge University press. P. 97

আরেকটি বই “philosophy of science, A new introduction ” এ বলা হয়েছে

Science is revisable. Hence talk of scientific ‘proof’ is dangerous, because the term fosters” the idea of conclusions that are graven in stone.

অর্থাৎ, বিজ্ঞান সবসময় পুনঃপরিক্ষণযোগ্য, অতএব বৈজ্ঞানিক প্রমাণের দাবি করা অত্যন্ত বিপদজনক। কারণ বিজ্ঞানের ফলাফল কোনো পাথরে খোদাই করা বিষয় নয়।যা কোনোদিন পরিবর্তিত হবে না । [22]philosophy of science: A new Introduction, GILLIAN BARKER & PHILIP KITCHER, Oxford University press. P.17

এমনকি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বিবর্তনবাদ প্রচারক রিচার্ড ডকিন্স তার বই ” A Devil’s Chaplain এ বলেন

We must acknowledge the possibility that new fact may come to light which will force our successors of the Twenty-First Century to abandon Darwinism or modify it beyond recognition

আমাদের কে অবশ্যই এই সম্ভাবনা শিকার করতে হবে যে এমন নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ হতেই পারে যা আমাদেরকে বা একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানীদের কে ডারউইনিজম বর্জন বা তার আমুলপরিবর্তনে বাধ্য করবে। ফিলোসোফি অফ সাইন্স আমাদের জানাচ্ছে বিজ্ঞান এবং বৈজ্ঞানিক থিওরি দুটোই সম্পুর্নরুপে পরিবর্তিত হতে পারে এবং বিজ্ঞান সবসময়ই অনিশ্চিত।

বিজ্ঞান ও বিশ্বাস (Science & believe)

বিজ্ঞান তার কার্যক্রম শুরুর প্রাক্কালে কিছু ধারণা নিজের মধ্যে নিয়ে নেয় এদের বলা হয় প্রাথমিক ধারণা (basic assumption) চলুন এমন কিছু এজাম্পশন দেখে নেয়া যাক।

১. There are natural causes for things that happen in the world around us.

“আমাদের চারপাশের বিশ্বে ঘটে যাওয়া জিনিসগুলির জন্য প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে।” উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি বল মাটিতে পড়ে, বিজ্ঞানের এক্ষেত্রে বিশ্বাস থাকে যে বলটি একবার ছেড়ে দিলে কেন নিচের দিকে চলে যায় তার একটি স্বাভাবিক ব্যাখ্যা থাকতে হবে । এই মুহূর্তে, বিজ্ঞানীরা মহাকর্ষকে বিশদভাবে বর্ণনা করতে পারেন,বিজ্ঞান ধরে নেয় যে মহাকর্ষের জন্য একটি ব্যাখ্যা রয়েছে যা প্রাকৃতিক কারণের উপর নির্ভর করে, ঠিক যেমন প্রকৃতিতে সবকিছুর জন্য প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে।

ছবিসুত্রঃ University of California 

 

2.Evidence from the natural world can be used to learn about those causes.

.”সেই কারণগুলি সম্পর্কে জানতে প্রাকৃতিক জগতের প্রমাণ ব্যবহার করা যেতে পারে।” বিজ্ঞান ধরে নেয় যে আমরা মাধ্যাকর্ষণ সম্পর্কে শিখতে পারি এবং কেন একটি বল নিচে পড়ে প্রাকৃতিক জগত থেকে এর প্রমাণ অধ্যয়ন করা যায়। বিজ্ঞানীরা অন্যান্য পতনশীল বস্তুর সাথে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন , পর্যবেক্ষণ করতে পারেন কিভাবে মহাকর্ষ গ্রহের কক্ষপথকে প্রভাবিত করে, ইত্যাদি। বিস্তৃত পরিসরের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পর্যবেক্ষণের প্রমাণ বিজ্ঞানীদের মাধ্যাকর্ষণের প্রাকৃতিক কারণ সম্পর্কে আরও বুঝতে সাহায্য করে। [23]Understanding Science 101, University of California

বিজ্ঞান প্রতিটি ক্ষেত্রের প্রাকৃতিক ব্যাখ্যা আছে বলে ধরে নেয়। সুত্রঃ University of California 

বিজ্ঞান ও বিশ্বাস নিয়ে প্রফেসর গালিব হাসান বলেন,

বিজ্ঞান সম্পর্কে মনে করা হয় যে, জ্ঞানের এ শাখা যুক্তি ও প্রমাণ ভিত্তিক এবং এখানে বিনা বিচারে কোনো কিছুই গ্রহণ করা হয় না। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো যে, বিজ্ঞানের যৌক্তিক কাঠামোর মধ্যেও অন্তর্নিহিত রয়েছে অযৌক্তিক এবং অল্প-যৌক্তিক নানা দিক। যেমন বিশ্বাসের কথাই ধরা যাক। প্রচলিতভাবে এটা মনে করা হয় যে, বিশ্বাস হলো ধর্মের ভিত্তি, যা বিনা বিচারে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু বিজ্ঞানের যৌক্তিক কাঠামোর মধ্যে যদি বিশ্বাসকেও লক্ষ্য করা যায় তাহলে বলব যে, বিজ্ঞানের এ কাঠামোর মধ্যে যুক্তি ও বিশ্বাসের দ্বান্দ্বিক সহাবস্থান রয়েছে। [24]গালিব আহসান, বিজ্ঞানের দর্শন; ভূমিকা (ঢাকা: জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ, ২০১৫)

বিজ্ঞান ও বিশ্বাসের সহাবস্থান উল্লেখ করতে গিয়ে বিজ্ঞান লেখক মারগারেট ভার্থেইম বলেন,

আমরা সবাই কিছু-না-কিছু বিশ্বাস করি এবং বিজ্ঞান নিজেও কিন্তু একগাদা বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। শুরুতেই বলা যায়, বিজ্ঞান এই বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে যে, বিশ্বজগতকে আমরা বুঝতে পারি এবং আমাদের উদ্ভাবন ক্ষমতা ও আরও সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম যন্ত্রপাতির ব্যবহারের দ্বারা আমরা শেষমেশ সব জেনে যাব। [25]John Brockman (etd.), What We Believe but Cannot Prove; p. 176 (Perfect Bound 2006)

সি.এস. লুইস বিচক্ষণতার সাথে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যে, “What we learn from experience depends on the kind of philosophy we bring to experience.”

“আমরা অভিজ্ঞতা থেকে যা শিখি তা নির্ভর করে আমরা যে ধরণের ফিলোসোফি(দর্শন) নিয়ে আসি তার উপর। [26]C. S. Lewis, Miracles: A Preliminary Study, (New York, Harper Collins, 2001), p. 2.

প্রকৃতপক্ষে, বিজ্ঞানতত্ত্বগুলি প্রায়শই দার্শনিক বা অন্যান্য ভিত্তি এবং অনুমানের উপর নির্দেশিত হতে পারে। নাস্তিক এবং সংশয়বাদী সহ প্রত্যেক বিজ্ঞানীর একটি ওয়ার্ল্ডভিউ এবং বিশ্বাস ব্যবস্থা রয়েছে, যা গবেষণামূলক/ অভিজ্ঞতাজনিত তথ্য (Empirical Data) থেকে তিনি যে সিদ্ধান্ত গুলি করেন সেগুলোর উপর প্রভাব ফেলে। হয়ত নাস্তিকদের বিশ্বাস ধর্মীয় বিশ্বাসের থেকেও বেশি চমকপ্রদ এবং আকাঙক্ষনীয় হতে পারে৷ একটি একাডেমিক পদ্ধতিগত গবেষণা এমনকি যুক্তিও দেখিয়েছে যে, “Scientists are slower to change their views in the face of new data than preachers are.”

“বিজ্ঞানীরা প্রচারকদের তুলনায় নতুন তথ্যের দিকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে ধীরগতির।” [27]science as a window on the scientific mind in Model-based reasoning in scientific discovery (ed. Lorenzo Magnani, Nancy J. Nersessian, and Paul Thagard), (New York: Kluwer Academic/Plenum Publishers, … Continue reading

ফিলোসফি অফ সাইন্স নিয়ে আরো একটি লেখাঃ বিজ্ঞানের দর্শন – Faith and Theology (faith-and-theology.com)

References

References
1 James Ladyman, Understanding Philosophy of Science. Page- 4
2 Michel Massimi (2015), Philosophy and the Sciences for everyone.
3 Clark Spencer Larsen (2018), Essentials of Biological Anthropology. 4th edition
4 Manuel C. Molles (2015), Ecology: Concepts and Applications. 7th edition.
5 The Structure of Scientific Theories”. The Stanford Encyclopedia of Philosophy. Metaphysics Research Lab, Stanford University. 2016. https://plato.stanford.edu/entries/structure-scientific-theories/
6 Fact vs Hypothesis vs Theory vs Law – https://www.discovery.com/science/Difference-Between-Fact-Hypothesis-Theory-Law-Science
7 Superseded theories in science – https://en.m.wikipedia.org/wiki/Superseded_theories_in_science
8 Taylor, C. A. (1996). Defining science: A rhetoric of demarcation. Univ of Wisconsin Press.
9 Tellis, W. (1997). Application of a case study methodology. The qualitative report, 3(3), 1-19.
10 Teaching about Evolution and the nature of science, US National Academy of Sciences, page-58
11 Freeman Dyson, How We Know, The New York Review. Retrieved from: https://www.nybooks.com/articles/2011/03/10/how-we-know/?pagination=false date: April 23, 2020
12 problem of induction | Britannica
13 www.psychwiki.com
14 A paradigm shift in brain research – PubMed (nih.gov)
15 The Steady-State Theory of the Expanding Universe – NASA/ADS (harvard.edu)
16 Big Bang nucleosynthesis (sciencedaily.com)
17 What is the cosmic microwave background? | Space
18 Theories and paradigm shifts – The Nature of Chemistry
19 On the relative motion of the Earth and the luminiferous ether | American Journal of Science (ajsonline.org)
20 Philosophy of science: A very Short Introduction, Samir Okasha, Oxford University press. Page- 64
21 Evidence and Evolution: Logic Behind The Science. Elliott Sober, Cambridge University press. P. 97
22 philosophy of science: A new Introduction, GILLIAN BARKER & PHILIP KITCHER, Oxford University press. P.17
23 Understanding Science 101, University of California
24 গালিব আহসান, বিজ্ঞানের দর্শন; ভূমিকা (ঢাকা: জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ, ২০১৫)
25 John Brockman (etd.), What We Believe but Cannot Prove; p. 176 (Perfect Bound 2006)
26 C. S. Lewis, Miracles: A Preliminary Study, (New York, Harper Collins, 2001), p. 2.
27 science as a window on the scientific mind in Model-based reasoning in scientific discovery (ed. Lorenzo Magnani, Nancy J. Nersessian, and Paul Thagard), (New York: Kluwer Academic/Plenum Publishers, c1999), pp. 89-98, as cited by M. Gazzaniga, The Ethical Brain (New York: Dana Press, c2005), p. 147.

Asief Mehedi

Assalamualaikum to all.My name is Asief Mehedi . I am an informal philosophy student. Let's talk about comparative theology, we work to suppress atheism. Help us to suppress atheism and come forward to establish peace.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button