Argument from Dependency

Argument from Dependency

Argument from Dependency

আমাদের মহাবিশ্বের সব কিছুই পর-নির্ভর। আমরা যা কিছু অনূভব করি, পর্যবেক্ষণ করি তা কোনো না কোনোভাবে পর-নির্ভরশীল।

পর-নির্ভরশীল বলতে আমরা আসলে কি বুঝি? কোনো বস্তু যদি তার অস্তিত্বের জন্য অন্য কিছুর নির্ভর করে, এটাই পর-নির্ভশীল। যা কিছু তার অস্তিত্বের জন্য অন্য কিছুর উপর নির্ভরশীল তার অস্তিত্ব অনিবার্য নয়। এবং সেটা অপ্রয়োজনীয়। কেননা সেটা অস্তিত্বশীল নাও হতে পারতো। ফিলোসফিতে যখন কোনো কিছুকে প্রয়োজনীয় বলা হয় তার মানে সেটার অস্তিত্ব অনিবার্য! আমাদের পর্যবেক্ষণলদ্ধ কোনো কিছুর অস্তিত্ব অনিবার্য না বা প্রয়োজনীয় না। আপনি নিজের কথাই চিন্তা করুন। আপনার অস্তিত্ব তো অপরিহার্য না! আপনি অস্তিত্বে নাও আসতে পারতেন।

মনে করুন, মৃদু আলো আর সোডিয়াম বাতির ঝলসানো রাতের কোনো এক শূন্য রাস্তায় আপনি হেঁটে চলেছেন দিকভ্রান্ত পথিকের মতো। চলতে চলতে একটা চত্বরের সামনে আসতেই আপনার চোখে পড়লো ফুল দিয়ে সজ্জিত করা তিনটি শব্দ; “আমি তোমাকে ভালোবাসি”। আপনার ভেতরে প্রশ্ন জাগতে পারে, ফুল গুলো এভাবে সজ্জিত না করে অন্যভাবেও তো করা যেত! “আমি তোমাকে ভালোবাসি” এ কথার পরিবর্তে তো ” আমি তোমাকে পছন্দ করি” এভাবেও সজ্জিত করা যেত। ফুলগুলো যেহেতু অন্যভাবে সজ্জিত করা সম্ভব তার মানে এখানে একটা বাহ্যিক শক্তি ফুলগুলো এভাবে সজ্জিত করেছে।

ফুলগুলো রাস্তার উপর সজ্জিত থাকার জন্য একটা ব্যাক্ষা প্রয়োজন। ব্যাক্ষা এ-জন্য প্রয়োজন যে ফুলগুলো সজ্জিত আছে-এ কথার মানে হলো এটা পর নির্ভর। কেননা ফুলগুলো গাছে থাকার কথা, কেনই বা রাস্তায় সজ্জিত করা- এর জন্য ব্যাক্ষা প্রয়োজন। সম্ভাব্য ব্যাক্ষাটা এমন হবে- যে কেউ একজন গাছ থেকে ফুলগুলো তুলে এনেছে, তারপর রাস্তার উপর এগুলোর বিন্যাস নির্ধারণ করে সজ্জিত করেছে। এগুলোই হচ্ছে ফুলগুলোর রাস্তার উপর থাকার বাহ্যিক কারণ।

ফুলগুলো এমনি এমনি এভাবে সজ্জিত হয়েছে -একথা কেউ বললে আপনি নিশ্চয়ই তাকে হেমায়েতপুর পাঠাবেন। কেননা আপনি জানেন কেউ ফুলগুলো এনেছে, এগুলোর বিন্যাস নির্ধারণ করেছে তাই ফুলগুলো এভাবে সজ্জিত।

যা সৃষ্ট তাই কিছুনা কিছুর উপর নির্ভরশীল। তবে কার্যকারনের নির্ভরশীলতার অসীম ধারাবাহিকতা অসম্ভব। কেননা অসীম সংখ্যক কারণ থাকলে “অনবস্থা দোষ”( infinite regress ) দেখা দিবে। যার ফলে, কখনোই বর্তমানে আসা সম্ভব না। যেমন রাস্তায় ফুল গুলো ওভাবে সজ্জিত হওয়ার পিছনে অবশ্যই অনেকগুলো কারণ আছে। তবে এই কারণ কখনোই অসীম সংখ্যক হতে পারেনা। যদি অসীম সংখ্যক কারণ ঘটতে হয় তাহলে অসীম সংখ্যক কারণ কখনোই শেষ হবেনা, আর ফুলগুলো কখনো ওভাবে সজ্জিত হতে পারবেনা।

বিষয়টা বুঝতে আপনার খুব বেগ পেতে হচ্ছে তাইনা? একটা উদাহারণ দিয়ে সহজ করে দিচ্ছি। রাস্তায় ফুলগুলোকে আমরা ‘ক’ ধরে নিচ্ছি। ‘ক’ ফুলগুলো ওভাবে সজ্জিত করেছে ‘ক১’ নামক ব্যক্তি। ‘ক১’ নামক ব্যক্তি ‘ক২’ এর মাধ্যমে এসেছে। ‘ক২’ নামক ব্যক্তি ‘ক৩’ নামক ব্যক্তি থেকে এসেছে। এভাবে কার্যকরণ নির্ভরশীলতা যদি অসীম সংখ্যক হয় তাহলে কখনো ফুলগুলো ওভাবে সজ্জিত হতে পারবে?

অবশ্যই পারবেনা। কেননা ‘ক১’ ব্যক্তির অস্তিত্বের জন্য ‘ক২’ ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল। ‘ক২’ ব্যক্তির অস্তিত্বের জন্য ‘ক৩’ এর উপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা যদি অনাদিকাল চলতে থাকে তাহলে তো নির্ভরশীলতা কখনোই শেষ হবেনা আর, ‘ক১’ ব্যক্তিও কখনোই বর্তমানে আসতে পারবেনা এবং ‘ক’ ফুলগুলোও কখনোই ওভাবে সজ্জিত করতে পারবেনা। তাই শুরুতে এমন কোনো কারণ থাকতে হবে যার পিছনে আর কোনো কারণ নেই।

অতএব, একটি স্বাধীন/স্বনির্ভর কার্যকারন থাকতেই হবে।সুতরাং,মহাবিশ্ব অবশ্যই এমন কোনো কিছুর উপর নির্ভরশীল যার অস্তিত্ব মহাজগৎ থেকে স্বাধীন বা যেটা কোনো কিছুর উপর নির্ভরশীল না।

এই মহাবিশ্ব এবং আমাদের পর্যবেক্ষণলব্ধ প্রতিটি জিনিসকে তিনটি উপায়ে ব্যক্ষ্যা করা যেতে পারে।

*এই মহাবিশ্বের যা কিছুই আমরা অনুভব করতে পারি, তার সব কিছুর অস্তিত্ব অনিবার্য এবং স্বাধীন ও চিরন্তন।

*এই মহাবিশ্বের যা কিছু আমরা অনুভব করি তার সব কিছু অন্য এক পর-নির্ভরশীলের উপর নির্ভরশীল।

* এই মহাবিশ্বে যা কিছু আমরা অনুভব করি তা এমন এক সত্তার কারণে অস্তিত্বে এসেছে যে সত্তা প্রকৃতিগতভাবে স্বাধীন এবং চিরন্তুন।

এই তিনটি ব্যাক্ষা নিয়ে আলোচনা করা যাক।

এই মহাবিশ্বের যা কিছুই আমরা অনুভব করতে পারি, তার সব কিছুর অস্তিত্ব অনিবার্য এবং স্বাধীন

আমাদের এই মহাবিশ্ব কি অনাদিকাল ধরে অস্তিত্বশীল হতে পারে? নিজে নিজেই অস্তিত্বে আসতে পারে? বা স্বাধীন হতে পারে?

প্রথমত, আমাদের এই মহাবিশ্ব এবং আমরা যা কিছু অনুভব করি তা স্বাধীন হতে পারেনা।কেননা আমাদের এই মহাবিশ্ব এবং আমরা যা কিছু অনুভব করি তার অস্তিত্ব তো অনিবার্য না ! আমাদের এই মহাবিশ্ব তো অস্তিত্বে নাও আসতে পারতো। আমরা যা যা অনুভব করি তার অস্তিত্বতো নাও থাকতে পারতো। বা অন্য রকমও তো পারতো! যে-কিবোর্ড দিয়ে আমি লিখছি সেই কিবোর্ড তো এমন না হয়ে অন্য রকমও হতে পারতো! মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত সম্প্রসারণ নাও তো হতে পারতো!

যেহেতু আমাদের এই মহাবিশ্ব বা মহাবিশ্বের ভেতরে যা কিছু অস্তিত্বশীল তা ঠিক যেমনটা আছে তেমন না হয়ে অন্য রকমও হতে পারতো সেহেতু এগুলো যেমন আছে তেমনটা হওয়ার জন্য নিশ্চয় বাহ্যিক কোনো কারণ আছে। কেননা, মহাবিশ্ব এবং মহাবিশ্বের ভেতরে অস্তিত্বশীল প্রতিটা জিনিসের রুপগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এবং তারা নিজেরা নিজেদের সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করেনি।

দ্বিতীয়ত, আমাদের এই মহাবিশ্ব এবং আমরা যা কিছু অনুভব করি তা অনাদিকাল ধরে অস্তিত্বশীল বা চিরন্তন হতে পারেনা। কেননা আমরা সকলেই জানি এই মহাবিশ্বের একটা শুরু আছে। যেটার শুরু আসে সেটা কখনোই অসীম হতে পারেনা। কেননা অসীমত্ব ধারণ করলে বর্তমানেই আসা সম্ভব না। যদি মহাবিশ্ব অসীম হতো তাহলে আমরা বর্তমানে আসতে পারতাম না, এই মহাবিশ্ব সৃষ্টিই হতোনা। কেউ যদি এর পরেও এই মহাবিশ্বকে অসীম বলে দাবি করে, তবুও মহাবিশ্বের রুপগত গুণাবলিকে সসীম করতে বাহ্যিক কারণের প্রয়োজন আছে। মহাবিশ্বের উপাদান গুলো এভাবে সজ্জিত না হয়ে অন্যভাবেও তো হতে পারতো। কিংবা মহাবিশ্ব তো অস্তিত্বে নাও আসতে পারতো। এটা নিজের অস্তিত্বের ব্যাক্ষা নিজে করতে পারেনা।

এই মহাবিশ্বের যা কিছু আমরা অনুভব করি তার সব কিছু অন্য এক পর-নির্ভরশীলের উপর নির্ভরশীল।

এই মহাবিশ্বে যা কিছু আমরা অনুভব করি তার সব কিছু অন্য এক পর-নির্ভরশীলের উপর নির্ভরশীল হতে পারেনা! কেননা, অন্য কোনো পরনির্ভরশীল বস্তুরও তো ব্যাক্ষা প্রয়োজন। পর-নির্ভরশীল বস্তুর জন্য উপযুক্ত ব্যাক্ষা হতে পারে স্ব-নির্ভর কোনো কিছু।

এই মহাজগৎকে অন্য কোনো মহাজগৎ দিয়ে ব্যাক্ষা করা সম্ভব ? আর এই ব্যাক্ষা যদি চিরকাল ধরে চলতে থাকে তাহলে মহাজগত কি কোনোদিন অস্তিত্বে আসতে পারবে? অবশ্যই না!

নিচের উদাহারণটি খেয়াল করুন;

ধরুন, অসীম সংখ্যক মানুষ, প্রত্যেকে তার বাবা-মার জৌবিক ক্রিয়ার ফসল। সেই বাবা-মা’ও তাদের বাবা-মা’র জৌবিক ক্রিয়ার ফসল। এভাবে অনাদিকাল ধরে যদি চলতে থাকে, তাহলে প্রশ্ন আসবে তাহলে মানুষ আসলো কিভাবে? মানুষের এই ধারার যদি শুরু না থাকে তাহলে তার জন্য অসীম সংখ্যক কারণ থাকা লাগবে। আর অসীম সংখ্যক কারণ কখনোই শেষ হবেনা, এবং মানুষও কখনো অস্তিত্বে আসতে পারবেনা।

এই উদাহারণ যদি আমরা মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে চিন্তা করি, তাহলেও এই মহাবিশ্ব কখনোই অস্তিত্বে আসতে পারবেনা। অস্তিত্বে আসার জন্য উপযুক্ত ব্যাক্ষা হতে পারে স্ব-নির্ভর কোনো কিছু।

এই মহাবিশ্বে যা কিছু আমরা অনুভব করি তা এমন এক সত্তার কারণে অস্তিত্বে এসেছে যে সত্তা প্রকৃতিগতভাবে স্বাধীন এবং চিরন্তুন।

আমাদের পর্যবেক্ষণলদ্ধ সব কিছু যেহেতু পর-নির্ভরশীল, সুতরাং এগুলোর জন্য সবচেয়ে যুক্তিসিদ্ধ ব্যাখ্যা হচ্ছে; এগুলো স্ব-নির্ভর কোনো কিছুর উপর নির্ভরশীল। স্ব-নির্ভর সেই সত্তা অবশ্যই স্বাধীন। স্বাধীন না হলে সেই সত্তার জন্য আবার ব্যাক্ষা লাগবে ।

এবং স্ব-নির্ভর সেই সত্তা চিরন্তন হতে হবে। কেননা, চিরন্তন না তা হবে সসীম।যদি সেই সত্তা সসীম হয় তাহলে তার জন্যও আবার ব্যাখ্যা লাগবে।

সুতরাং আমরা বলতে পারি; এই মহাবিশ্বে যা কিছু আমরা অনুভব করি তা এমন এক সত্তার কারণে অস্তিত্বে এসেছে যে সত্তা প্রকৃতিগতভাবে স্বাধীন এবং চিরন্তুন। আর সেই স্ব-নির্ভর,চিরন্তন সত্তা হলো একমাত্র মহাল আল্লাহ। একমাত্র সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব দিয়েই এই সত্তার ব্যাখ্যা করা সম্ভব।

সবকিছুকে অস্তিত্বে আনার জন্য যে একজন স্বাধীন সত্তার প্রয়োজন,সেকথার প্রমাণ কুরআনে উল্লেখ আছে।

আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেন,

তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী। রেফারেন্সঃ

হে মানুষ, তোমরা আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী আর আল্লাহ অমুখাপেক্ষী ও প্রশংসিত। রেফারেন্সঃ

আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। রেফারেন্সঃ

তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। রেফারেন্সঃ

ইসলাম ধর্মে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার বৈশিষ্ট;

  • স্ব-নির্ভর।
  • সব কিছু তার উপর নির্ভশীল।
  • তিনি সব কিছুর প্রয়োজন পূরণ করেন।
  • আল্লহা চিরন্তন।
  • আল্লাহ স্বয়ংস্মপূর্ণ
  • ওয়াজিবুল-উজুদ [আল্লাহর অস্তিত্ব অনিবার্য]

এই টপিকে অন্যান্য আর্টিকেলঃ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব – Faith and Theology (faith-and-theology.com)

Facebook
Twitter
LinkedIn
Telegram
WhatsApp

3 thoughts on “Argument from Dependency”

  1. Pingback: আর্গুমেন্ট ফর গড - Faith & Theology

  2. Pingback: The Fine-Tuning Argument - Faith and Theology

  3. Pingback: মহাবিশ্ব কে সৃষ্টি করেছে ,প্রকৃতি নাকি আল্লাহ ? - Faith and Theology

Leave a Comment

Your email address will not be published.

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

Category