মাল্টিভার্স মহাবিশ্ব কি বৈজ্ঞানিক থিওরি, হাইপোথিসিস নাকি ফিকশন?

মাল্টিভার্স মহাবিশ্ব কি বৈজ্ঞানিক থিওরি, হাইপোথিসিস নাকি ফিকশন?

মাল্টিভার্স মহাবিশ্ব কি বৈজ্ঞানিক থিওরি, হাইপোথিসিস নাকি ফিকশন?

নাস্তিকদের বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করা হচ্ছে যে মাল্টিভার্স তত্ত্ব একটি বৈজ্ঞানিক হাইপোথেসিস। তাদের এসব মিথ্যা বানোয়াট অবৈজ্ঞানিক কথা বার্তা শুনে অনেক সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। মাল্টিভার্স মহাবিশ্ব কি বৈজ্ঞানিক থিওরি কিনা সেটা জানার আগে আমাদের জানতে হবে থিওরি ও হাইপোথিসিস সম্পর্কে।     

হাইপোথিসিস বা প্রকল্প  

কোনো সম্ভাবনামূলক ঘটনার কারণ হিসেবে যে ধারণা বা অনুমান করা হয় তাকে প্রকল্প বা হাইপোথেসিস বলে। তবে সকল আনুমানিক ধারণা হাইপোথেসিস হিসবে বিবেচিত হয়না। এখানে বিজ্ঞানি নিউটনের গাছ থেকে আপেল পরার ঘটনাটি উদাহারণ হিসেবে নেওয়া যায়। 

কথিত আছে যে, বিজ্ঞানী নিউটন একদিন আপেল গাছের নিচে বসেছিলেন। হঠাৎ গাছ থেকে একটা আপেল মাটিতে পরে এবং এই ঘটনা দেখে বিজ্ঞানী নিউটন অনুমান করলেন যে, সম্ভবত বস্তুর মাটির প্রতি একটা আকর্ষণ রয়েছে। এটা কেবলই তার ধারণা বা হাইপোথেসিস। পরবর্তীতে পরিক্ষা-নিরিক্ষার মাধ্যমে এটাকে তিনি গাণিতিক সূত্রতে রুপ দেন। 

বৈজ্ঞানিক হাইপোথেসিস হলো প্রাকৃতিক জগতে ঘটে যাওয়া ঘটনার একটি পরিক্ষণযোগ্য ব্যাখ্যা। একটা হাইপোথেসিস সাধারণত if-Than (যদি-তখন) বিবৃতি আকারে লিখা হয়ে থাকে। যেটা একটা সম্ভাবনা দেয় এবং তার কারণে কি ঘটতে পারে সেটাকে ব্যাখ্যা করে। যেমন;

(1) যদি চকোলেট খাওয়ার পর ক্যাভিটি হয়ে থাকে তাহলে যারা নিয়মিত চকোলেট খায় তাদের ক্যাভিটি হওয়ার প্রবণতা বেশি।  

(2) অতিবেগুনি রশ্মি যদি চোখের ক্ষতি করে তাহলে এই আলো অন্ধত্বের কারণ হতে পারে।   

পরিক্ষণযোগ্যতা হচ্ছে সাইন্টেফিক হাইপোথেসিসের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট। একটা বৈজ্ঞানিক হাইপোথেসিসকে অবশ্যই পরিক্ষণযোগ্য এবং ফলসিফিয়াবল (ভুল প্রমাণ করা যায় এমন) হতে হবে। অস্ট্রেলিয়ান ব্রিটিশ ফিলোসফার কাল পপার তার বিখ্যাত “The Logic of Scientific Discovery” বইতে উল্লেখ করেন,  

একটি অনুমান তখনই বৈজ্ঞানিক অনুমান বা বৈজ্ঞানিক হাইপোথেসিস বলে গণ্য হবে যখন এটিকে পরিক্ষা বা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যাবে এবং খন্ডন করা যাবে।[1] What is a scientific hypothesis? | Live Science 

এছাড়াও কাল পপার এর মতে,

যে থিওরি ফলসিফিয়াবল নয় বা ভুল প্রমাণ করা যায়না সেটা বৈজ্ঞানিক হতে পারেনা।[2] Karl Popper’s 1963 book “Conjectures and Refutations- What is a scientific hypothesis? | Live Science

সাইন্টেফিক মেথড সম্পর্কেও যাদের ধারণা আছে তারা অবশ্যই জানে যে হাইপোথিসিস হতে হলে যে বিষয়ের উপর হাইপোথিসিস করা হবে সেটা অভরাজবেবল হতে হবে, পরিক্ষণযোগ্য হতে হবে, ফলসিফিয়াবল হতে হবে। 

নিচের ছবিটিতে সাইন্টেফিক মেথডগুলো দেওয়া আছে। অর্থাৎ এই মেথড অনুসরণ করেই একটা সাইন্টেফিক থিওরি হয়।  

কিভাবে একটা হাইপোথেসিস এবং থিওরি তৌরি হয় তা সাইন্টেফিক মেথড ব্যবহার করে একটা উদাহারণ বিবেচনা করা যাক। 

  1. অভজারবেশনঃ মনে করুন আপনার গাড়িটি চালু হচ্ছেনা। 
  2. রিসার্চ টপিক এরিয়া/ প্রশ্নঃ আপনি গাড়িটি ভালো করে দেখার পর প্রশ্ন করলে যে গাড়িটির কি ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গিয়েছে? 
  3. হাইপোথেসিসঃ যদি ব্যাটারিটি নষ্ট হয় তাহলে ব্যাটিরিটি পরিবর্তন করলেই গাড়ি চালু হবে।
  4. টেস্ট উইথ এক্সপেরিমেন্টঃ  ব্যাটারিটি পরিবর্তন করলেন। 
  5. আন্যালাইজ ডেটা / রেজাল্টঃ গাড়িটি চালু হয়েছে। 
  6. রিপোর্ট কনক্লুশনঃ সুতরাং আপনার ব্যাটারিটি নষ্ট ছিলো এবং আপনার হাইপোথেসিস (যদি ব্যাটারিটি নষ্ট হয় তাহলে ব্যাটিরিটি পরিবর্তন করলেই গাড়ি চালু হবে) সঠিক ছিলো। 

বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব কি?  

একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হল একটি প্রাকৃতিক ঘটনার জন্য একটি ব্যাখ্যা যা বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপকভাবে গৃহীত এবং ডেটা দ্বারা সমর্থিত। বৈজ্ঞানিক তত্ত্বগুলি অনেক পরীক্ষা এবং পরীক্ষা দ্বারা নিশ্চিত করা হয়, যার অর্থ তত্ত্বগুলি পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। একটি তত্ত্বের উদ্দেশ্য হল একটি সাধারণ নীতি প্রতিষ্ঠা করা যা নির্দিষ্ট কিছু ঘটনাকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে। সাইন্টেফিক থিওরি কোনো ভবিষ্যদ্বাণী নয়, তবে হাইপোথিসিস হচ্ছে ভবিষ্যদ্বাণী। 

কিছু সাইন্টেফিক থিওরির উদাহারণঃ

  1.  বিগ ব্যাং তত্ত্ব হলো মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। এই তত্ত্ব অনুসারে আজ থেকে ১৩.৮ বিলিয়ন বছর পূর্বে মহাবিশ্বের বর্তমান ও অতীত সকল স্থান-কাল-শক্তি-পদার্থ-পদার্থের নিয়ম সবকিছুই একই সময়ে মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে একটি বিন্দু থেকে সৃষ্টি হয়েছে। এই সময়ে সমস্থ পদার্থ অসীম ঘনত্ব এবং তীব্র তাপ সহ একটি বিন্দুর মধ্যে সংকুচিত ছিলো যাকে সিঙ্গুলারিটি বলা হয়। পরবর্তিতে একটি মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে প্রসারিত হতে শুরু করে। এবং এভাবেই মহাবিশ্বের শুরু হয়েছে। 
  2. The Heliocentric Theory বা সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্ব: নিকোলাস কোপার্নিকাসের তত্ত্ব প্রমাণ করে যে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরে।

থিওরি ও হাইপোথিসিসের মধ্যে পার্থ্যক্য

হাইপোথিসিস বা অনুমান একটি অস্থায়ী ব্যাখ্যা বা ভবিষ্যদ্বাণী। একজন বিজ্ঞানী তাদের অনুমানকে একটি নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষিত ইভেন্টের উপর ভিত্তি করে, কিভাবে বা কেন সেই ঘটনা ঘটবে তার অনুমান করে। তাদের অনুমান পরীক্ষা এবং পরীক্ষা দ্বারা সঠিক বা ভুল প্রমাণিত হতে পারে। অন্যদিকে সাইন্টেফিক থিওরি হচ্ছে একটি ঘটনার প্রমাণিত ব্যাখ্যা। থিওরি পরীক্ষিত এবং যাচাইকৃত ডেটার উপর নির্ভর করে। 

মাল্টিভার্স কি ? 

মাল্টিভার্স তত্ত্ব অনুযায়ী আমাদের মহাবিশ্ব, যা বিলিয়ন বিলিয়ন গ্রহ, নক্ষত্র এবং ছায়াপথ নিয়ে গঠিত এবং কোটি কোটি আলোকবর্ষ বিস্তৃত, এটিই একমাত্র মহাবিশ্ব নয়, এমন আরো মহাবিশ্ব থাকতে পারে। 

আপনি যদি খালি চোখে রাতের আকাশের দিকে তাকান, আপনি হাজার হাজার তারা এবং অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু দেখতে পাবেন, কখনও কখনও এমনকি একটি গ্যালাক্সি বা একটি ক্লাস্টারও দেখতে পাবেন। যদি একটি শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে দেখার চেষ্টা করেন তাহলে আপনি আমাদের গ্রহ থেকে লক্ষ লক্ষ কিলোমিটার দূরে মহাকাশীয় বস্তু দেখতে পাবেন। আপনি যদি আপনার অনুসন্ধান চালিয়ে যান এবং পর্যবেক্ষণের সবচেয়ে শক্তিশালী যন্ত্রের সাহায্যে আপনি যা পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হন তার শেষ পর্যন্ত পৌঁছান, আপনি পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের প্রথম দিকের নক্ষত্র এবং এমনকি বিগ ব্যাং-এর অবশিষ্টাংশও দেখতে পাবেন! 

জ্যোতির্বিজ্ঞানে, মহাবিস্ফোরণকে মহাবিশ্বের টাইমলাইনের বা শুরুর বিন্দু হিসাবে বিবেচনা করা হয় যেখানে সমস্ত কিছুর শুরু হয়েছিল: বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, আমাদের মহাবিশ্ব একটি একক বিন্দু থেকে প্রসারণের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং এটি এখনও প্রসারিত হচ্ছে। যখন আমরা আমাদের মহাবিশ্বের কথা চিন্তা করি, তখন আমরা সাধারণত অনুমান করি যে এর সূচনা বিন্দু হল বিগ ব্যাং – যা প্রায় 13.8 বিলিয়ন বছর আগে ঘটেছিল।

যাইহোক, ধরুণ, বিগ ব্যাং আসলে ঘটেইনি! স্থান এবং সময়ের কোন শুরু নেই! তাহলে আমাদের মহাবিশ্বের শুরু কিভাবে হয়েছে ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই মাল্টিভার্স তত্ত্ব এর ধারণাটি এসেছে। মাল্টিভার্স থিওরি অনুযায়ী আমাদের মহাবিশ্ব, যা কোটি কোটি গ্রহ, তারা এবং ছায়াপথ নিয়ে গঠিত এবং কোটি কোটি আলোকবর্ষ বিস্তৃত, এটিই একমাত্র মহাবিশ্বের নাও হতে পারে। আমাদের মহাবিশ্বের মতো এমন অসীম সংখ্যক মহাবিশ্ব থাকতে পারে যেগুলো নিজস্ব প্রাকৃতিক নিয়মের সাথে চলে এবং একে অপরের  থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। মাল্টিভার্স তত্ত্ব বিজ্ঞান মহলে সবচেয়ে বিতর্কিত ধারণাগুলোর মধ্যে একটি।  

Inflation মুদ্রাস্ফীতি তত্ত্ব কি?

বিগ ব্যাং ছিল একটি বিশাল বিস্ফোরণ, এবং বিস্ফোরণগুলি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তবুও মহাবিশ্বে গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি এবং গ্যালাক্সি ক্লাস্টারগুলির একটি চমৎকার শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। 

মুদ্রাস্ফীতি তত্ত্বকে তাই প্রায়ই বিগ ব্যাং থিওরির একটি সম্প্রসারণ হিসাবে দেখা হয়। এই তত্ত্ব অনুযায়ী আমাদের মহাবিশ্ব একটি ছোট পরমাণুর মতো ছিল, এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশে মহাজাগতিক অনুপাতে প্রসারিত হয়েছে। অন্য কথায়, এটি দ্রুত সম্প্রসারণের একটি সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে এবং একটি অবিশ্বাস্যভাবে বড় আকারে পৌঁছানোর জন্য স্ফীত হয়েছে। সহজ কথায়, মহাবিশ্ব খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল হয়ে উঠেছে। বিগ ব্যাং এর পর স্পেসের যে প্রসারণ হয়েছে ,তাকে কসমিক ইনফ্লেশন বলা হয়। এই দ্রুত সম্প্রসারণ প্রায় 13.8 বিলিয়ন বছর আগে শেষ হয়েছিল – ঠিক যখন বিগ ব্যাং ঘটেছিল।

তবে অনেক কসমোলজিস্ট বিশ্বাস করেন যে এই দ্রুত মুদ্রাস্ফীতি সব জায়গায় একই সময়ে শেষ হয় না; এটি কিছু অঞ্চলে শেষ হতে পারে এবং অন্যগুলিতে চলতে পারে। সুতরাং, যখন এই সম্প্রসারণটি আমাদের মহাবিশ্বের জন্য 13.8 বিলিয়ন বছর আগে শেষ হয়েছিল, তখন এমন অঞ্চল থাকতে পারে যেখানে মুদ্রাস্ফীতি অব্যাহত ছিল-এবং এখনও অব্যাহত থাকতে পারে- এবং আরো মহাবিশ্বের সৃষ্টি হতে পারে। এটি অসীম স্ফীতির জন্ম দেবে, যা পৃথক মহাবিশ্বের একটি মহাসাগর তৈরি করে। এই পরিস্থিতিতে, প্রতিটি স্বতন্ত্র মহাবিশ্বের পক্ষে তার নিজস্ব অস্তিত্বের নিয়ম-অনন্য ভৌত শক্তি, প্রাকৃতিক ঘটনা, মৌলিক ধ্রুবকের মান এবং এমনকি এটি পরিচালনাকারী নিয়মগুলোও আমাদের মহাবিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। সংক্ষেপে এই হচ্ছে মাল্টিভার্স তত্ত্ব। ইনফ্লেশনারী ইউনিভার্স এর মডেল প্রস্তাব করা হয়েছিল  আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর পূর্বে। তবে এখন পর্যন্ত এর পক্ষে তেমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 

মাল্টিভার্স কি বৈজ্ঞানিক থিওরি? 

সাইন্টিফিক থিওরি নিয়ে আমরা আলোচনায় আমরা দেখেছি যে, একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হল একটি প্রাকৃতিক ঘটনার ব্যাখ্যা যা বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপকভাবে গৃহীত এবং ডেটা দ্বারা সমর্থিত। বৈজ্ঞানিক তত্ত্বগুলি অনেক পরীক্ষা এবং পরীক্ষা দ্বারা নিশ্চিত করা হয়, যার অর্থ তত্ত্বগুলি পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। এবং এটা কোনো ভবিষ্যদ্বাণীও নয়। কিন্ত মাল্টিভার্স থিওরি এখনো বিজ্ঞান মহলে ব্যাপকভাবে গৃহীত নয়, যথাযথ পরিক্ষা নিরক্ষার দ্বারাও নিশ্চিত করা হয়নি। এবং এটার ফসসিবায়ালিটিও নেই। সুতরাং, মাল্টিভার্স মহাবিশ্ব এখন থিওরির পর্যায়ে পৌছাতে পারেনি। এছাড়াও এখন পর্যন্ত মাল্টিভার্স মহাবিশ্বকে কোনো বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞান মহল থেকে থিওরি হিসেবে বিবেচিতো করেনি।

ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির একজন তাত্ত্বিক জ্যোতির্পদার্থবিদ, কসমোলজিস্ট এবং গবেষক লুক এ বার্নস এর মতে,     

মাল্টিভার্স একটি অনুসন্ধানমূলক পর্যায়ে রয়েছে।……এটি পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক কিছু নয়। এই বিষয়ে আমাদের আরো প্রতক্ষ্য, আরো প্রমাণ খুঁজে বের করতে হবে। [3]What is the multiverse, and does it really exist? (phys.org)

আমেরিকান পদার্থবিদ পল স্টেইনহার্ড সাইন্টিফিক আমেরিকান এ বলেন,

ইনফ্লেশনারী তত্ত্ব কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্বই নয়। তিনি বলেন, ইনফ্লেশনারী সৃষ্টিতত্ত্ব আমরা যেমনটা এখন বুঝি। এটাকে বৈজ্ঞানিক কোনো মাধ্যমে মূল্যায়ন করার উপায় নেই। [4] Cosmic inflation theory faces challenges, Scientific American, February 1,2017

২০১৩ সালে পল স্টেইনহার্ড, আনা ইজ্জাস এবং আব্রাহামলয়েব কর্তৃক প্রকাশিত গবেষণাপত্র Inflationary paradigm in trouble after Planck 2013 “অনুযায়ী,

প্ল্যাঙ্ক স্যাটে লাইট এর সাম্প্রতি ক তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী এবং সাম্প্রতিক পরীক্ষামূলক ডেটার ভিত্তিতে ইনফ্লেশনারী তত্ত্ব গ্রহণীয় নয় বরং বাতিল হওয়ার পথে । [5] [1304.2785] Inflationary paradigm in trouble after Planck2013 (arxiv.org)

মাল্টিভার্স কি বৈজ্ঞানিক হাইপোথেসিস? 

লেখার শুরুতেই আমরা হাইপোথেসিস কি? সেই বিষয়ে আলোচনা করেছি। পরিক্ষণযোগ্যতা এবং পর্যবেক্ষণযোগ্যতা হচ্ছে সাইন্টেফিক হাইপোথেসিসের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট। একটা বৈজ্ঞানিক হাইপোথেসিসকে অবশ্যই পরিক্ষণযোগ্য এবং ফলসিফিয়াবল (ভুল প্রমাণ করা যায় এমন) হতে হবে। 

অস্ট্রেলিয়ান ব্রিটিশ ফিলোসফার কাল পপার তার বিখ্যাত “The Logic of Scientific Discovery” বইতে উল্লেখ করেন,  

একটি অনুমান তখনই বৈজ্ঞানিক অনুমান বা বৈজ্ঞানিক হাইপোথেসিস বলে গণ্য হবে যখন এটিকে পরিক্ষা বা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যাবে এবং খন্ডন করা যাবে। [6]What is a scientific hypothesis? | Live Science 

এছাড়াও কাল পপার এর মতে, 

যে থিওরি ফলসিফিয়াবল নয় বা ভুল প্রমাণ করা যায়না সেটা বৈজ্ঞানিক হতে পারেনা। [7]Karl Popper’s 1963 book “Conjectures and Refutations- What is a scientific hypothesis? | Live Science  

মজার বিষয় হচ্ছে, মাল্টিভার্স তত্ব পরিক্ষণযোগ্য এবং পর্যবেক্ষণ যোগ্য নয়। তাই মাল্টিভার্সকে হাইপোথেসিস বলাটাও চরম বোকামি। এটাকে খুব বেশি হলে সাইন্স ফিকশন বলা যায়।   

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির অ্যাস্ট্রোফিজিসস্ট এবং বিশিষ্ট অধ্যাপক অ্যাডামরিস এবং অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট মারিও লভও, স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টটিউটে বলেছেন, 

এমনকি শুধু মাল্টিভার্স আইডিয়ার কথা উল্লেখ করলেও কিছু পদার্থবি দদের রক্তচাপ বেড়ে যায়।ধারণাটি গ্রহণ করা কঠিন এবং পরীক্ষা করা কঠিন বলে মনে হচ্ছে – সম্ভবত আমরা জানি এটি শাস্ত্রীয় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সমাপ্তি নির্দেশ করে । ঐতিহাসিকভাবে এই পদ্ধতির প্রয়োজন হয়েছে যে অনুমানগুলি নতুন পরীক্ষা বা পর্যবের্যবেক্ষণ দ্বারা সরাসরি পরীক্ষণযোগ্য হওয়া উচিত।  তবে মাল্টিভার্স এর ক্ষেত্রে মাল্টিভার্স কে পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। [8]Adam G. Riess and Mario Livio (2016), “The Puzzle of Dark Energy,” Scientific American, 314[3]:42, emp. added.

বিজ্ঞান সম্পর্কীত অন্যান্য লেখাঃ বিজ্ঞান – Faith and Theology (faith-and-theology.com)

References

References
1 What is a scientific hypothesis? | Live Science
2 Karl Popper’s 1963 book “Conjectures and Refutations- What is a scientific hypothesis? | Live Science
3 What is the multiverse, and does it really exist? (phys.org)
4 Cosmic inflation theory faces challenges, Scientific American, February 1,2017
5 [1304.2785] Inflationary paradigm in trouble after Planck2013 (arxiv.org)
6 What is a scientific hypothesis? | Live Science
7 Karl Popper’s 1963 book “Conjectures and Refutations- What is a scientific hypothesis? | Live Science
8 Adam G. Riess and Mario Livio (2016), “The Puzzle of Dark Energy,” Scientific American, 314[3]:42, emp. added.

Sazzatulmowla Shanto

As-salamu alaykum. I'm Sazzatul mowla Shanto. Try to learn and write about theology and philosophy. SEO (search engine optimization) expert and professional Graphic designer.

3 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button